তব দয়া, তব দয়া দিয়ে পারি যেন জীবন ধুতে

আমি ধানমন্ডি থেকে মিরপুরে যাব। সময় সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই করছে। বাসে যাওয়ার উপায় নেই, অনেক ভীর। তাই একটি সিএনজি অথবা টেক্সির জন্য দাড়িয়ে আছি 27 নম্বর মোড়ে। অনেক সাধাসাধি’র পর এক ট্যাক্সিওয়ালা রাজি হলো যাওয়ার জন্য। এই দয়ার জন্য তাকে দিতে হবে 30 টাকা বেশি। উপায় নেই; উঠে পরলাম।
আমি ট্যাক্সিতে উঠে চুপচাপ থাকি না। গল্প করতে পছন্দ করি ট্যাক্সিওয়ালাদের সাথে। বেশিরভাগ দিনই গল্প বেশিদূর গড়ায় না। বিষয়বস্তু হয়ে যায় “মালিক অনেক বেশি জমা নেয়”। তবে আজকের ট্যাক্সিওয়ালা বড়ই রসিক। সে প্রচন্ড উত্তেজনার সাথে বলে যাচ্ছে কীভাবে তাদের কোম্পানি’র একটি ট্যাক্সি ছিনতাইকবলিত অবস্থা থেকে ফিরে এসেছে। আমি মজা পেলাম।
যখন মিরপুরে, আমার ট্যাক্সিওয়ালা আমার কাছ থেকে 10টাকা কম নিল। মানে তাকে অতিরিক্ত 20টাকা দিতে হলো। আর আমাকে বলল “10টাকা কম নিলাম”। হায় দয়া!
আমি কী কোন জোকস বললাম!

স্টার প্লাস চ্যানেলটি বন্ধ করব কেমন করে?

আমি ঢাকায় থাকি। অনেকের মতোন আমার বাসাতেও একটি টেলিভিশন আছে। আর তা সংযুক্ত আছে ক্যাবলটিভি নেটওয়ার্কের সাথে। অপারেটররা যা দেখাতে চান, তাই দেখি। তারা নাচান, আমি ওদের সাথে নাচি। যদিও এই নাচার কোন বাসনা আমার নাই। 60% চ্যানেলই আমার পছন্দ না, তারপরেও দেখতে হয় যখন এক চ্যানেল থেকে আর এক চ্যানেলে যাই।

আমার বাসার বাকী সদস্যরা প্রতিদিন একটা চ্যানেল দেখে তা হলো স্টার প্লাস। আমি তাদের এই আগ্রহের উপর সম্মান প্রদর্শনের জন্য একদিন টিভি সেটের সামনে বসলাম। তারা সেখানকার একটা মেগা সিরিয়ালের কাহিনী আমাকে বুঝিয়ে দিল। আমি প্রথম দিন খুব উত্তেজনা নিয়ে দেখলাম। খারাপ লাগল না। পরের দিন আবারো একই সিরিয়াল দেখতে গেলাম। কিন্তু নতুন কিছু পেলাম না। হতে পারে এটা তাদের পৌণপৌনিকা, হয়তো এটা তাদের আর্ট।

যা দেখলাম!
আমি পরপর 5দিন একই প্রোগ্রাম দেখলাম। ক্রমান্বয়ে আনন্দ থেকে হতাসা, হতাসা থেকে বিরক্ত, এবং বিরক্ত থেকে ক্রধে ফেটে পড়লাম। ইন্ডিয়ার এই চ্যানেল মানুষকে কী ভাবছে! তাদের এই চ্যানেলের সিরিয়ালের কাহিনী (আমার সন্দেহ আছে) হয়তো ভালো।? কিন্তু উপস্থাপনা খুবই নিম্নরুচির। এটা কোন ভাবেই মেনে নেবার মতোন নয়।

কী আছে এইসব সিরিয়ালে?
এইসব সিরিয়ালে দেখানো হয় ইন্ডিয়ার সুপার হাই সোসাইটির জীবনযাপন ব্যাবস্থা। যারা সর্বক্ষণ মেকাম করে দামী অলঙ্কারে অলঙ্কিত থাকে। যাদের থাকে একাধিক স্ত্রী যাদের মধ্যে আবার সবাই ডিভোর্সড এবং তারপরেও চমৎকার সম্পর্ক। আবার দেখা যায় বর্তমান স্বামী তার বউকে বউয়ের ভালোর জন্য অন্য আর একজনের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে! বড়ই রহস্যজনক সব বিষয়। অবাস্তব।
আর এই অত্যাচার প্রতিদিন বাসায় চলে। যদিও আমি এগুলোন দেখি না। তারপরেও শব্দ কানে আসে। তখন ভাবি, এইসব তো আমার পরিবারের মানুষরাই দেখছে। তখনই ভয়টা মনে ঢুকে যায়। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের সবচেয়ে বাজে নির্মাতা হিসেবে যিনি স্বীকৃত, তিনিও এর চেয়ে হাজার গুণ ভালো অনুষ্ঠান নির্মান করতে পারবেন।

এখানে অকে ব্লগার আছেন, আপনারা কী এর থেকে পরিত্রাণের কোন উপায় বলতে পারেন। আমি আমার এলসিডি টিভিটাকে ভেঙে ফেলতে পারছি না। কারন প্রায় সময় এটিকে আমার কম্পিউটার মনিটর হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। ক্যাবল বন্ধ করতে পারি না, কারন ন্যাশনাল জিওগ্রাফি’র একটা অনুষ্ঠান আমি দেখি।