ভাওয়াল রাজার দেশে

ভাওয়াল রাজা বা সন্যাসী রাজার ইতিহাসটা মোটামুটি জানি। কিন্তু কখনো তার রাজবাড়ি দেখতে যাওয়া হয় নি। অথচ বাসা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে। কী আশ্চর্য।

সুখ কায়সার। যার মা সম্পর্কে আমার বোন। সুখ অনেক দিন পর লন্ডন থেকে দেশে এসেছে। আবার চলে যাবে। কবে দেখা হয় বা না হয় এই ভেবে এক ঢিলে তিন পাখি। পাখি নাম্বার ওয়ান: ঈদে কোথাও যাই নাই। বাকী দুইটা সুখের বাড়ি আর ভাওয়াল রাজবাড়ি। 

অনেক মজা হয়েছে। মাত্র ২৫ মিনিটে ঢাকা থেকে পৌঁছে গিয়েছলাম। রাস্তা পুরা ফাঁকা ছিল। বাকীটা এই ছবিগুলো। 

শেষ ছবি

একটা নরম আলো চাই
ক্যালভিন স্কেলে আমার মনের মতো
ঠিক যেন বহু যত্নে সাজানো কোন সেট
তুমি আসবে, দাড়াবে, আকাশের সাথে
মেঘের মতো চুল ঢেকে থাকবে
নরম লালাভ আলোয় উদ্ভাসিত হবে মুখ,
চিক চিক করে উঠবে চোখের মনি,
ব্যাকুল হয়ে চারপাশে খুঁজতে গিয়ে
যখন আবিষ্কার করবে আমিই তোমার ক্যামেরাম্যান
খুব অদ্ভুত ভাবে হেসে ফেলবে,
সেই হাসিতে পাওয়ার আনন্দে মাখা না পাওয়ার সুখ
আমি শেষবারের মতো ক্যামেরায় ক্লিক করব
তারপর আলোর সাথে মিশে গিয়ে বিলীন হয়ে যাব;
শেষ ছবি একেই বলি, অসমাপ্ত ক্ষণ।

**//** ধানমন্ডি, ঢাকা

আমার ছুটি

আমার তো ছুটি হয়ে গেল
বলে দিল, আজ থেকে ছুটি
আহা.. ছেলেবেলা, মেঘের রাজ্যে ছুটোছুটি
তাবৎ ঘাস, নদীর পানি কিংবা মহিষের গাড়ি;
এখন ছুটি হলে আর ঘণ্টা পড়ে না
কতকাল থেকে স্থির সময়ে আটকা পড়ে আছি
বলছ আমার ছুটি, হৃদমাঝারে আটকা আছে
একটা ডাংগুলি।

**//** ধানমন্ডি, ঢাকা।

নিশ্চল আয়ু

ডুবে গেছে চাঁদ
আঁধারে আঁধার জমে আছে
বড় নিশুত রাত
জেগে আছি, বড় বেদনা বাজে
নিশ্চল আয়ূ-
লিখে গেছি না জানা যুবকের দল
দূরে সাইরেন আসে
প্রতিরাতে এই শহরে লাশবাহি গাড়িগুলো
বিলাপ করে
আমরা যাত্রী ক’জন
হাতে হাত রেখে বৃথা ক্রন্দন-
থামে নাই ঘড়ি,
রেখে গেছে বেদনার মিহিন চাদর;
পাঞ্জাবীর দুহাত, কত রাত
চোখের জল মুঝে হয়ে গেল পার
নেই যেন, কী নেই, কী নেই, কী নেই
কীসের প্রলাপ এখন এই ঘরে?
তারপরেও নিজেরে আবিষ্কার করে
এক একটা লাশ
ভাবনাহীন সময়ের মাঝে কিছুটা উদাস।

**//** ধানমন্ডি, ঢাকা

 

তুমি কি কেবলি ছবি

এই ছবিটি আজকে সারাদিন অনেকবার দেখেছি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রকাশিত ছবির মধ্যে এটি এখন আমার সবচেয়ে বেশী প্রিয়। কেন প্রিয় তা ব্যাখ্যা করার কোন প্রয়োজন দেখছি না। 

টিকটিকি

ঘুম ভেঙে গেছে
টিকটিকি ডেকে গেছে;
প্রতিডাকে মনে হয় সময় নেই-
জেগে দেখি প্রাচীন এক বাড়িতে আমি একা
চারিদিকে সময়হীন ঘড়ি
সেই বাড়ির প্রতিটি উপন্যাস হাতড়ে বেড়াচ্ছি-
বেরসিক টিকটিকি প্রতিটি ডাকে বাস্তব আর পরাবাস্তবে
একাকার করে দিচ্ছে;
এই নগর বালিতে-ধুলিতে ঢেকে যাক-
অনেক বছর পরে একটি প্রাচীন কক্ষের মাঝে
মিশরীয়দের মতো আমাকে আবিষ্কার করো-
তুমি আসবে ভেবেই অসময়ে আটকা পড়ে আছি।

**//** ধানমন্ডি