ঈদ মোবারক!

DSC_5138

এইযে পূর্বপুরুষদের বানান বাগানে এখন বসে আছি আদিম আর বর্তমানকে নিয়ে। বসে আছি শত বছরের পুরোনো বাগানে আর কোলের উপর ডেলের সর্বাধুনিক (একদম আপডেটেড) ল্যাপটপ কম্পিউটার। মাথার উপর কলতান আর ল্যাপটপে টুইটার.কম। কী অদ্ভুত ব্যাপার। ভার্চুয়ালিটি আর রিয়েলিটি। তাই এখন ভাবছি মাইকেল এরিংটন বা রবার্ট স্কবল কী এই অনুভূতি নিতে পেরেছেন কিনা?

মূল প্রসংগ থেকে সরে যাচ্ছি, আমার গ্রাম থেকে! আমি এবার বাড়িতে গিয়ে সামান্য সময়ের জন্যও বাইরে বের হইনি। শুধু দু’চোখ যতদূর যায় দেখেছি। আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা মানুষের মতোন। বসে ছিলাম পানির নালাটার কাছে। আমার শৈশবে যেখানে অনেক মাছ ধরেছি। শৈশবে তার চারপাশটাকে অরণ্য মনে হতো। এখন ছোট্ট একট জংলা। হায় শৈশব! শৈশবের উদার মন এখন আর নেই। সব কিছুকে ছোট করে দেখার অভ্যাস হয়ে গেছে!

প্রাচীন গাছগুলোন নেই। যেসব গাছে ওঠার কৌশল একসময় আমি জানতাম। কোন গাছের ফলের স্বাদ কেমন তাও ছিল মুখস্ত। স্মৃতিগুলোন নিয়ে তবুও ভালোই ঘসামাজা করি।

DSC_5287

কিছুদিন আগে ঢুলি দাদা মারা গেছেন। প্রাচীন একজন মানুষ ছিলেন। তার কিছু পোট্রেট করা উচিত ছিল। পারলাম না। অনেক ভালো কাজ করা হয় না কিন্তু করার উপযোগিতা চন্তা করতে ভালো লাগে। অলস চিন্তা।

আমাদের বাড়িতে পরম্পরার কুকুর আছে। বাড়ি কখনই কুকুর শূন্য ছিল না। এবার দেখলাম প্রথমবার মা হয়েছে একটা কুকুর। জন্ম দিয়েছে ৮টি বাচ্চার (!)। জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই ২টা বাচ্চা মারা যায়। গিয়ে পেলাম ৬টিকে। বড় বিস্ময়কর দৃশ্য। কেবল ঘর থেকে বের হয়েছে বাচ্চাগুলোন। তাই নতুন করে দেখতে শেখা। সব কিছুতেই তাদের অনুসন্ধিৎসু মন। তাই প্রায় সময়ই দেখা গেল পাশের পানির নালায় পরে গেছে এবং চিৎকার করছে। তাদের তুলে দিতে হয় বার বার। এই কুকুর বিষয়ে আর একটা মজার কথা আছে। সেটা আমার বাবাকে নিয়ে!

আমার বাবা হচ্ছেন মজলিশি মানুষ। যেকোন সাধারন কাজকে অনেক আয়োজন করে করতে তিনি ভালোবাসেন। মা কুকুরটা যখন ছোট ছিল, তখন তারা ছিল ৪টি। বাবা একদিন লক্ষ করলেন যে শরীরে তাদের অনেক ময়লা। সঙ্গে সঙ্গে তিনি কিছু লোক নিয়োজিত করলেন পরিষ্কার করার জন্য। সাবান, শ্যাম্পু দিয়ে একাকার। তাদের কে গা শুকানোর জন্য দেয়া হলো নতুন পাটি (বাঁশের)। গোসল শেষে যখন রৌদ্রময় পাটিতে তাদের রাখা হলো তার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা ধুলায় নেমে পরে গড়াগড়ি দিতে লাগল। স্বভাবিক কুকুরের অভ্যাস। কিন্তু আমার বাবা অনেক হতাস এবং বিরক্ত হলেন। তার এতো আয়োজন কুকুরগুলোন বুঝল না!

Mother Dogতবে এবার আমার কুড়িগ্রাম অধ্যায় অনেক ভালো লেগেছে। যদিও ঢাকায় ফিরি এসেছি ঈদের একদিন পরেই। তবুও বার বার যেতে ইচ্ছে করছে। আমার বাড়ি। আমার নিজের বাড়িটাতে।

 

Comments

  1. I was expecting pics of ‘fulkumar, digonto – bistrito math r dudhkumar’……..in a word ..of your village..your root…….

  2. i read your writing. yeh this is your root. you can’t forget this.even i live outside of country.last summer when i went to my village i feel peace in my mind.may be i live my whole life in canada.but i think i never forget my village and my country. i will be a Banagdeshi and i wanna be.

  3. i like this part..

    ????? ??? ?????????? ????? ??? ???? ??? ????? ??? ????? ??? ????! ?????? ???? ?? ??? ?? ???? ?? ?????? ??? ??? ????? ?????? ??? ????!
    ..this is so true! I had the similar feelings