ফেইসবুক নেই

আমি যে সময়টা ইয়েলো ক্যাফেতে বসে থাকি, লিখি। লিখি উপন্যাসটি অথবা এলোমেলো ভাবনাগুলো। ফেইসবুক আমার এলোমেলো ভাবনার জায়গাটায় একদম মোক্ষম একটা মাধ্যম। সেই ২০০০ সাল থেকে নিজের ওয়েব সাইট মেইনটেইন করে যাচ্ছি। ব্যক্তিগত ওয়েব বিষয়টা শুরুতে এইরকম ব্লগের মতো ছিল না, কিন্তু এক রকম স্টাটিক ওয়েব দিয়েই আমি ব্লগ করতাম। তখনো ঠিক ওয়ার্ডপ্রেস জনপ্রিয় হয় নি। বিষয়টি একই সাথে ছিল শেখার এবং নিজের ডায়েরি রক্ষা করার।

ওয়েবসাইট বিষয়ক প্রাথমিক সকল গবেষনা নিজের ব্যক্তিগত সাইট করতে গিয়েই। ওয়ার্ডপ্রেসে সাইট সরিয়ে ফেলি ২০০৬ সালে। হাসিন হায়দার তখন আমার কলিগ। একদিন হাসিন বলল ব্যক্তিগত সাইটের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ভালো। তার পরামর্শে ওয়ার্ডপ্রেস এবং সেই থেকে এর ফ্যান। পরবর্তীতে আমার প্রায় সকল সাইটই ওয়ার্ডপ্রেসে বানানো।

গত ২ দিন থেকে আমার ফেইসবুক বন্ধ। এটার মেরামতের কাজ চলছে। আসলে অনেকটা সময় বেঁচে যাচ্ছে। প্রচুর সময় নষ্ট হতো ফেইসবুকে। তাই খুব বেশী চেষ্টাও করছি না এটা ঠিক করার।

**//** ধানমন্ডি, ঢাকা।

বিনিদ্র রাত

সারা রাত জেগে আছি। এখন ভোর হচ্ছে। অদ্ভুত এই শহরের দালানগুলো সিলুয়েট হয়ে আছে। অনেক মানুষ হয়তো এই সময়ে তার হাই ডাইনামিক রেঞ্জের চোখ দিয়ে দালান আর ভোরের নরম আলোকে পৃথক করার চেষ্টা করছে। আর আমি বিনিদ্র। 
যে বিনিদ্র সে নাকি স্বপ্ন দেখতে পারে না। কিন্তু স্বপ্নের অত্যাচারে কিছু মানুষ নিশাচর। আধুনিক ঘরে বসে, ইন্টারনেটে সারা দুনিয়া চরে বেড়ায়। এই পৌনে ৩৯ বছরের জীবনে এতো বেশী পরিবর্তনের মধ্যে পড়েছি যে নিজেকে আর চিনতে পারি না। আমার পুরো নিজেকে হারিয়ে খোঁজার মতো একটা বিষয় হয়ে গেছে।
গত দুই দিন থেকে মনে হচ্ছে কোথায় কী জানি নেই। এক ধরণের হাহাকার নিয়ে এপাশ-ওপাশ করছি। নিঃশব্দের নিশ্বাস টের পাচ্ছি। বড্ড এলোমেলো অবস্থা। যমপূরীর মতো, একটা কাকের ডাকও পাই না। এই শহরের কাকগুলো ধানমন্ডি পরিত্যাগ করেছে। 
ভোর হচ্ছে, সবাই জাগছে। প্রতিটি প্রাণ যার যার অস্তিত্বের সংগ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেক পড়তে হবে এই ভেবে বাবা-মায়েরা সন্তানদের ভোরে উঠিয়ে দিচ্ছে। আবার কেউ হয়তো সবচেয়ে আরামে ঘুমের মধ্যে তেপান্তরের মাঠে ঘোড়ায় চড়ে রাজকন্যাকে উদ্ধার করতে ব্যাস্ত। আমার শরীরের ভিতরের জীবাণুরা নতুন উদ্যেমে বাাঁচার জন্য রক্তকণিকাকে আক্রমণ করার কোন ফন্দিতে ব্যস্ত। 
ইদানিং ভাবনাগুলো খুব এলোমেলো। ঘন্টার পর ঘন্টা লিখতে ইচ্ছে করে। কে কী ভাবল বা ভাবল না, গুরুত্ব দিল কী দিল-না এই ভেবে যাচ্ছেতাই ভাবে লিখতে ইচ্ছে করছে। বয়স হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবী নামের এই গ্রহের অনেকগুলো ঋতু পার করে কেমন যেন অচেনা হয়ে গেছি। 
কোন একদিন আমি ঠিক সব ছেড়ে চলে যাব। সভ্যতা নামের থিওরি যা কিছু দিয়েছে, সব ফেলে খালি পায়ে হেটে চলে যাব। ক্যালেন্ডার নেই, এপয়েন্টমেন্ট নেই, ফোন নেই, এসএমএস নেই, ফেইসবুক নেই, ইন্টারনেট নেই এবং কম্পিউটার নেই কোন খানে। শেষ কবে চাদের আলোয় ঘুমিয়েছি! 
বড় অস্থির লাগছে। ভোর হচ্ছে অথচ আগের মতো আর জাগছি না। এভাবেই সভ্য হওয়ার চেষ্টায় দিনে দিনে আমার মৃত্যু হচ্ছে।

**//** ধানমন্ডি, ঢাকা।

যেখানে স্বপ্নের শুরু…..

আমার ফটোগ্রাফার হওয়ার পিছনে পানির সম্পর্ক অনেক বেশি কথাটা হাস্যকর কিন্তু অনেক সত্যি। দীর্ঘ বিরতির পর যখন বৃষ্টি আসে তখন থেকেই এই চিন্তার শুরু।

_MG_6863_copy_kanak

গ্রামে বড় হার একটা সুবিধা আছে, নিজের মতোন করে অনেক কিছু দেখা যায় ছোটবেলা থেকেই। হাটিহাটি পাপা করে যখন চলা শুরু হয়, তখন থেকেই বাবা মা এক রকম ছেড়েই দিতেন। কতদূর আর যাব, এই গ্রামের সবাই সবাই কে চেনে। সন্ধ্যা হলে ঠিক কেউ না কেউ বাসায় দিয়ে যাবে! তারপরেও বেশিদূর যাওয়া হত না। শিশুকালে আমাদের বাড়ির পিছনের সুপারি বাগান কে মনে হত বোটানিকাল গার্ডেন। আর তার পিছনের জলা জায়গাকে মনে হত ঘন অরণ্য। একটু দুরে যেখানে ঝাকরা ঝাকরা চুলের সারি সারি গাছেরা বিকেলের আলোতে ঝলমল করত, সেখানে অনেক টিয়া পাখির কলতান ছিল। অনেক বিস্ময় নিয়ে চেয়ে থাকতাম। কারণ অতদূর যেতে পারতাম না। কল্পনায় মনের মধ্যে টিয়া পাখির আসা যাওয়া। স্বপ্নের শুরুটা হয়ত সেখানেই। যে সময়ের কথা বলছি সেটা ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে।

প্রথম বৃষ্টি সব সময় দিনের বেলা হত এমন কথা নেই। যখন রাতের বেলা প্রথম বৃষ্টি হয়, ঘুম ভাঙত ব্যাং এর ডাকে। এত ব্যাং যে অন্য সময় কোথায় থাকত, বুঝতে উঠতে পারতামনা। কারণ ব্যাঙদের হায়বারনাসন এর কথা জানতাম না। ঘুম থেকে উঠেই সময় হয়ে যেত ব্যাংময়। রাজ্যের সব শিশুরা উপস্থিত হয়ে যেতাম সকাল থেকেই। ব্যাং ধরার চেষ্টা করতাম। ঢিল ছুড়তাম। অনেক উত্তেজিত একটা বিষয়। প্রথম বৃষ্টিটা যখন দিনের বেলা আসতো বিস্ময়ের শুরুটা হত বৃষ্টি আসার আগে।

যে প্রান্তরের দিকে চেয়ে চেয়ে সময় পার করতাম তা ছিল ফুলকুমার নদীর একাংশ। বৃষ্টি আসার আগে হুট করে তা বদলে যেত। আকাশ কালো হয়ে আসতো। পুরো অন্ধকার। তার মধ্যে দিগন্ত রেখার একটু উপর দিয়ে অদ্ভুত সুন্দর আলো বের হতো। কালো আকাশের নিচে ফ্লুরোসেন্ট লাইটের মতন এক বিচিত্র আলো। সেই আলো আধারিতে আমার পরিচিত চারপাশ হয়ে যেত স্বপ্নপুরী। মনে হতো এ আমার গ্রাম নয়। এ হচ্ছে রূপকথার মায়াপুরী। অনেক বাতাস হতো সেই মুহুর্তে। ঝড়ো বাতাস। বাতাসে গাছ্গুলন  হেলে পড়ত। একটু পরে শুরু হত বৃষ্টি। প্রত্যেকবারেই বৃষ্টিতে ভিজতাম। কারণ বৃষ্টির সাথে সাথেই অদ্ভুত সুন্দর সেই আলো হারিয়ে যেত আলতো করে। আলোর মিলিয়ে যাওয়া পরিবর্তন দেখতাম। ভালো লাগার শুরু সেখানেই। শিল্পী হওয়ার বাসনাও হয়ত সেখানেই।

মেঘে মেঘে অনেক বেলা হলো। এখনো সেই মেঘের পিছনেই ছুটছি। শেষ শরতের মেঘময় আকাশ এখনো আমাকে দোলা দেয় তেমনি যেমন দিয়েছিল ৩০ বছর আগে। আমার শৈশবের মেঘ এবং প্রথম বৃষ্টির ছবি সবসময় তুলতে চেয়েছি। চেষ্টা করলেও সেই মুহূর্ত আঁকতে পারব না। ক্যামেরাই সম্বল। সেই চেষ্টার মধ্যেই আছি। ক্যামেরা হাতে আমি মেঘের সাথে উড়ি। ক্যামেরা হাতে আমি বৃষ্টির অপেক্ষা করি।

আগামী তিন মাস কোনো কাজ করব না…

বেশ অলস সময় পার করছি. বেশ ব্যস্ততার মধ্যে কয়েকটা মাস গেল. প্রথমেই আমার মেজ বোনের বিয়ে এবং তার পরেই আমার মামা অসুস্থ হলেন. ওনার হার্ট এর ২ টি ভালভ নষ্ট হয়ে যায়. ওনাকে নিয়ে পুরো দের মাস হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি. অবশেষে মামার  ওপেন হার্ট সার্জারী শেষ হলো. মামা এখন আমার বাসায়. এক সপ্তাহ পরে মামা বাসায় চলে যাবেন. আর আমি পুরা তিন মাসের জন্য ছুটিতে চলে যাব.

DSC00427

আজকে সারাদিন ব্যপক আড্ডাবাজি করলাম. অনেক দিন পরে শিপলু ভাই এর সাথে দেখা এবং দুপুরে এক সাথে খেলাম. অজোতে. পিপার স্টেক. তারপরে বাসায় এসে বন এবং বন জামাইদের সাথে ব্যপক আড্ডা. জীবনটা খারাপ যাচ্ছে না.. 🙂

My First Sketch

sketch

After getting the Wacom Intuos4 I tried to sketch for the first time in my life. Well tried to draw my daughter, Roopkotha.

I used ArtRage Studio Pro software for this. Used Pencil and Chalk tool on a regular Canvas paper.

Can anyone tell me from where or how I can draw better as I never went to any drawing school. Any suggestion?

রূপকথা

photo

এক একটি দিন বড় একা লাগে। বড্ড একা। অনেকদিন আকাশ দেখা অথবা তারা দেখার মত এক অনুভুতি। এক এক ফোঁটা করে সেলাইন শরীরে যায়, এক এক ফোঁটা নিস্তব্ধতাকে উপহার দিয়ে। প্রতিটা সময় কাটে তোমার কথা ভেবে মাগো!